<<< বিজ্ঞপ্তি >>>
@ দৈনিক তিস্তা সংবাদে আপনাকে স্বাগতম। এখন থেকে অনলইনে নিয়মিত ভিজিট করে আমাদের সঙ্গে থাকুন <<< www.dailyteestasangbad.com / fb:teestasangbad >>>॥ ইমেইল: news.teestasangbad@gmail.com
শিরোনাম ॥
শীতের তীব্রতা বেড়েছে পঞ্চগড়ে কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে আশ্রয়ণে কাজ করানোর অভিযোগ কৃষকরাই বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখে’ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্য নিয়ে বিভ্রান্তোমূলক ফতোয়া ছড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মানববন্ধন পুলিশী হামলার ১১ দিনেও বিচার না পাওয়ায় রাজপথে রংপুরের সাংবাদিক সমাজ গঙ্গাচড়ায় কৃষক লীগকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সভা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবন্ধি উন্নয়ন ফোরামের মানববন্ধন বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই ওভার কনফিডেন্টের কারণে করোনা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী যমুনার ওপর বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
চরে আটকে গেছে যাদের জীবন

চরে আটকে গেছে যাদের জীবন

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা॥
কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ফুলকুমারসহ ১৬টি নদ-নদী। এসব নদ-নদীর অববাহিকায় রয়েছে সাড়ে ৪শ’রও বেশি চর। যুগের পর যুগ নদীর ভাঙা-গড়ায় বন্দী হয়ে আছে এসব চরবাসীদের জীবন।
অবস্থাটা এমন যে, কোন চর ভাঙনের কবলে পড়লে সেই চরের বাসিন্দারা সর্বস্ব হারিয়ে আবার নতুন করে বসত গড়ে পাশেরই জেগে ওঠা নতুন চরে। চরাঞ্চলের বালু জমিতে ফসল ফলিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ফের ভাঙনে ঘর-বাড়ি জমি-জমা সব কিছুই হারাতে হচ্ছে তাদের। এভাবেই জীবন চক্র চলছে তাদের। কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের এমনই একজন মোজাম্মেল হক। বয়স ৬০ বছর। নদী যতই দুঃখ দিক না কেনো, নদীর সাথেই যেন জন্মের সম্পর্ক তার, রক্তের সম্পর্কও। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে শিশুকাল, শৈশব, যৌবন পেরিয়ে এখন ৫ সন্তানের জনক তিনি। নদীর পানিতে মাছ আর নদীর জেগে ওঠা চরে জীবিকা নির্বাহ করতে করতেই ৬০ বছর।
১৯৭৬ সালের কথা। মোজাম্মেল হক তখন ১৬ থেকে ১৭ বছরের যুবক। বাপ-দাদার জোতদারী ছিল। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বর্তমান রলাকাটার চরে বাড়ি ছিল তাদের। চৌচালা টিনের ঘর, সুপারীর বাগান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ ছিল। ভারতের কালাইবাড়ী সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া সীমানা দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা ব্রহ্মপুত্র নদ একদিন গড়িয়ে গড়িয়ে তাদের বসত ভিটার নিকটবর্তী হলো। ভাঙন আরো তীব্র হলো। সেই সময়ে নদের প্রখর স্রোত আর তীব্র ভাঙনে একদিন-একরাতেই নিশ্চিহ্ন করে দিলো তাদের বসত ভিটা। ঘর-বাড়ির সামান্য কিছু সরাতে পারলেও বাকি সব গ্রাস করে নিয়েছিল ব্রহ্মপুত্র। তারপর ঠিকানা হয় ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠা নতুন চর পশ্চিমের চরে। সেখানে ৫ থেকে ৬ বছর বাপ-দাদার জেগে ওঠা জমিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। তারপর আবারো বসত-ভিটাসহ ঘর-বাড়ি ভেঙে নেয় ব্রহ্মপুত্র। আবারো ঠিকানা হয় ওই নদের বুকে জেগে ওঠা দক্ষিণের চরে। সেখানে ৩ থেকে ৪ বছর আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। তারপর আবারো ভাঙন। স্থান পরিবর্তন হয় একুশের চরে। তারপর দশবিশের চরে, তারপর চারবিশের চরে, তারপর মাঝিয়ালির চর, তিনবিশের চর, জিতুর দাগে। এভাবেই তার জীবদ্দশায় ৯ থেকে ১০ বার এই ভাঙ্গা গড়ার খেলা খেলতে খেলতে বর্তমানে ঠিকানা মিলেছে সেই নদেরই বড়ুয়ার চরে। সেখানেই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন মোজাম্মেল হক।
একই অবস্থা বর্তমানে ব্রহ্মপুত্রের চর রলাকাটায় বসবাসকারী আনছার আলীর (৬০)। অন্ততঃ ১০ বার ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ঘর-বাড়ি সরাতে সরাতে আশ্রয় মিলেছে রলাকাটার চরে। ১০ সন্তানের জনক আনছার আলী তার ৪ মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন চরেই। আর ছেলেদের চরেই বিয়ে করিয়েছেন। বর্তমানে একই চরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। একই অবস্থা আমিনুল ইসলাম, কাইছাল হক, বাছের আলী, ইমান আলীরও। একই অবস্থা এখানের চরাঞ্চলের লাখো পরিবারের। চরাঞ্চলে বসবাসরত এমন কোন পরিবার পাওয়া যাবে না যাদের ঘর-বাড়ি নদ-নদী গ্রাস করেনি। আর তা ৫ থেকে ১০ বারের উপরে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের চরগুলোতে বসবাসকারীদের প্রায় প্রত্যেক পরিবারের ঘর-বাড়ী নদের ভাঙনের শিকার হয়েছে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত।
ন্ম থেকেই ব্রহ্মপুত্রে অববাহিকায় বেড়ে ওঠা সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দশবিশের চরের আফসার আলী (৭৫) জানান, ৪০/৪৫ বছর আগে ব্রহ্মপুত্রে দুই দিকে এতো বেশি চর ছিল না। আগে ব্রহ্মপুত্রের একটি মাত্র নদ ছিল যার গভীরতা ছিল অনেক বেশি। ফলে ভারত থেকে নেমে আসা পানি সহজেই নদ বেয়েই গড়িয়ে যেতো। কিন্তু ধীরে ধীরে নদের গভীরতা কমতে শুরু করে। এতে করে বন্যার সময় উজান থেকে নেমে আসা পানি নদ আর বহন করতে পারে না। ফলে এই পানি নদের দু’কুল ছাপিয়ে নতুন নতুন পথ তৈরি করে বিস্তীর্ণ এলাকা ভেঙে নিয়ে যায়। এতে করে অনেক শাখা নদীর সৃষ্টি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় পুরোটাই ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত। এখানে বসবাসকারী সকল মানুষই দারিদ্র সীমার নীচে। একমাত্র ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কারণেই তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা গেলে দারিদ্রতা থাকবে না। দীর্ঘদিন চরাঞ্চল নিয়ে কাজ করা স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘জীবিকা’র পরিচালক মানিক চৌধুরী মনে করেন, ভাঙন রোধে ইমারজেন্সি ওয়ার্কে টাকা না ঢেলে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে গবেষণার মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনায় ভাঙনরোধ করতে হবে। তবেই চরের মানুষদের সুদিন ফিরে আসবে। তা না হলে এদেশের দারিদ্রতার জরিপে প্রতিবছর দারিদ্রতার শীর্ষেই অবস্থান থাকবে কুড়িগ্রাম জেলার।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, নদ-নদীর ভাঙনরোধ হলে চরবাসীর জীবন-মানের উন্নয়ন হবে। সে লক্ষে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি চরের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই সংবাদ ভালো লাগলে শেয়ার করুন।।

চায়না শিশুদের করুণ দোয়া

আজকের বাংলা তারিখ

  • আজ সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং
  • ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
  • ১৪ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

ইংরেজি বর্ষ-২০২০

কোরআন-হাদিসের বাণী

সত্য লোকের নিকট অপ্রিয় হলেও তা প্রচার কর -আল হাদিস

॥ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - ২০২০
Desing & Developed BY NewsSKy