<<< বিজ্ঞপ্তি >>>
@ দৈনিক তিস্তা সংবাদে আপনাকে স্বাগতম। এখন থেকে অনলইনে নিয়মিত ভিজিট করে আমাদের সঙ্গে থাকুন <<< www.dailyteestasangbad.com / fb:teestasangbad >>>॥ ইমেইল: news.teestasangbad@gmail.com
শিরোনাম ॥
রাস্তা তৈরির সময় পানি চলাচল যেন ব্যাহত না হয়: প্রধানমন্ত্রী এলেঙ্গা-রংপুর চারলেনের ব্যয় বাড়লো ৪৭৬৩ কোটি টাকা বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এম.পি ৫ দিনের সফরে রংপুর আসছেন বুধবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৭ ইমাম ওলামা পরিষদ রংপুরের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রংপুরে নর্থ বেঙ্গল কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি ক্যাডেট স্কুল সোসাইটির সম্মেলন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে অবমাননা করার প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে তামান্নার গ্রেফতার দাবিতে মহাসড়কে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ অবরোধ দুর্গাপূজার অনুদান প্রদানে অনিয়মের অভিযোগে গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন গাইবান্ধায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সিকিউরিটি গার্ডের মৃত্যু
জিরো থেকে হিরো হাফেজ হায়দার আলী ॥ এতিমদের অর্থে ৯ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক

জিরো থেকে হিরো হাফেজ হায়দার আলী ॥ এতিমদের অর্থে ৯ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক

জিরো থেকে হিরো হাফেজ হায়দার আলী ॥
এতিমদের অর্থে ৯ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক
স্টাফ রিপোর্টার॥
জিরো থেকে হিরো হলেন হাফেজ হায়দার আলী। তার মাসিক বেতন মাত্র ৯ হাজার ৮০০ টাকা। এতেই ৯ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক হন তিনি। এ সামান্য সময়ে তিনি গড়েছেন বিভাগীয় শহর রংপুরের অভিজাত ধাপ এলাকায় বিলাসবহুল কোটি টাকা মূল্যের ২টি ফ্লাট বাড়ি। কচুয়া সর্দারপাড়া গ্রামেও রয়েছে একটি বাড়ী। মালিক হয়েছেন প্রায় ৭ একর কৃষি জমির। ঘরের ফানিচার ও আসবাবপত্র সবকিছু বিদেশ থেকে অর্ডার দিয়ে নিয়ে আসা। এটা কোন সিনেমা বা উপন্যাসের গল্প নয়। বাস্তব সত্য ঘটনা। এতিমদের অর্থ আত্নসাৎ করাই হাফেজ হায়দার আলীর আয়ের প্রধান উৎস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায়।
সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের কচুয়া সর্দারপাড়া গ্রামের খোবাইব বিন আদি (রাঃ) এতিমখানার পরিচালক হাফেজ হায়দার আলী। তিনি ইতোপূর্বে ওই এতিমখানার সামান্য বেতনভূক্ত কর্মচারী ছিলেন। তৎকালীন পরিচালককে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অপসারণ করে সুকৌশলে ২০১১ সালে তিনি দখল করেন পরিচালকের পদ। এর পর তিনি এতিমখানার এতিমদের ভরণ পোষনের অর্থ লুট করে অতি অল্প সময়ে স্ত্রী সন্তানসহ নামে-বেনামে জিরো থেকে প্রায় ১০ কোটির টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অথচ পরিচালক হায়দার আলীর মাসিক বেতন মাত্র ৯ হাজার ৮০০ টাকা।
সূত্রে জানা যায়, কাতার চ্যারিটি দাতা গোষ্ঠির সহযোগিতায় খোবাইব বিন আদি (রাঃ) এতিমখানাটি কোরানের হাফেজসহ ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত এতিমদের শিক্ষা দিয়ে আসছে। এই এতিমখানারটির শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া, ভরণপোষন, শিক্ষক-কর্মচারী বেতন ভাতার সার্বিক খরচ ওই দাতা সংস্থা প্রদান করে থাকে।
দাতা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রাপ্ত ছাত্র সংখ্যা ৩২৮ জন ও ছাত্রী ৯৫ জন, মোট ৪২৩ জন। প্রতি ছাত্র-ছাত্রীর ভরণ পোষনের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার ১০০ টাকা প্রদান করেন দাতা সংস্থা। সে অনুযায়ী মাসে ভরণ-পোষনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পায় ১৩ লক্ষ ১১ হাজার ৩০০ টাকা।
কিন্তু সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্র উপস্থিত থাকে ১৯০ জন ও ছাত্রী ৪০ জন, মোট ২৩০ জন শিক্ষার্থী। অতিরিক্ত ১৯৩ জন ছাত্র-ছাত্রীর ভূয়া ভাউচার ও ভূয়া একাউন্ট দেখিয়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেন ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩০০ টাকা। যা এক বছরে ৭১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়াও হাফেজ হায়দার আলীর আয়ের খাতে রয়েছে এতিমখানার পুরাতন বিল্ডিং, গাছ ও পুকুরের মাছ বিক্রি। এতিমখানার পুরাতন মসজিদের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নতুন মসজিদ তৈরী করে বিল ভাউচার জমা করা। এভাবেই হাফেজ হায়দার আলী এতিমদের অর্থ আত্মসাত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটুল বলেন, অদৃশ্য কারণে যোগ্যতা না থাকার পরেও হাফেজ হায়দার আলী ২০১১ সালে এতিমখানাটির পরিচালকের দায়িত্ব পান। সে সাথে পান আলাদিনের চেরাগও। পৈত্রিকসূত্রে পিতা আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে হাফেজ হায়দার আলী পন মাত্র ২০ শতক কৃষি জমি। তিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে তার নিজ এলাকায় কৃষি জমি ক্রয় করেন ৭ একর। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। গ্রামের বাড়িতে কোটি টাকা ব্যয়ে ২য় তলা বিশিষ্ট ৪ হাজার স্কয়ার বর্গফুটের একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ির আসবাপত্র ও ফানির্চার বিদেশ থেকে অর্ডার দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকার উপরে। রংপুরের অভিজাত এলাকা ধাপ মেডিকেল মোড়ে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জমির উপর কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি বিলাস বহুল বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। সেখানেও রয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার দামী ফানির্চার। এছাড়াও রংপুর শহরে আরও ২ কোটি টাকার মূল্যের জমি ক্রয় করেন তিনি। তিনি যে মটর সাইকেলটিতে চড়েন তার দাম প্রায় ৩ লাখ টাকা। সব মিলে গত ৯ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা উপর অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি।
চেয়ারম্যান টিটুল আরো জানান, এতিমখানার পরিচালক হিসাবে হাফেজ হায়দার আলী বেতন পান ৯ হাজার ৮০০ টাকা। তার এক বছরে বেতন আসে এক লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা, যা ৯ বছরে দাঁড়ায় ১০ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪০০ টাকা। পক্ষান্তরে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মাসিক ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তার সামান্য কেতনে ১০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন কিভাবে সম্ভব? দূনীর্তি দমনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর তদন্ত শুরু করলে হাফেজ হায়দার আলীর অবৈধ সম্পদের উৎস বের হয়ে আসবে বলে এলাকাবাসীর দাবী জানান।
হায়দার আলীর এলাকায় রয়েছে বিশাল বাহিনী। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বল্লে ওই বাহিনী লেলিয়ে দেন তিনি। পরিচালক হায়দার আলীর রিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়লেও তা রহস্যজনক কারণে তদন্তের নামে ধামাচাপা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
এই বিষয়ে হাফেজ হায়দার আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনেকেই ষড়যন্ত্র করে আসছে। তার সম্পদের বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন তার শ্বশুর বাড়ি থেকে তিনি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তা দিয়ে তিনি এসব সম্পদ করেছেন।

এই সংবাদ ভালো লাগলে শেয়ার করুন।।

চায়না শিশুদের করুণ দোয়া

আজকের বাংলা তারিখ

  • আজ বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
  • ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
  • ১০ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

ইংরেজি বর্ষ-২০২০

কোরআন-হাদিসের বাণী

সত্য লোকের নিকট অপ্রিয় হলেও তা প্রচার কর -আল হাদিস

॥ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - ২০২০
Desing & Developed BY NewsSKy